হীরক রাজার সুন্দরবন ভাবনা

স্থানঃ রাজদরবার

চরিত্রঃ রাজা হীরক এবং কতিপয় গবেষক, উজির,  দু পাশে দুজন করে চারজন মন্ত্রী, দুজন পেয়াদা।

 (রাজদরবারে রাজার আগমণ ধ্বণী ঘোষণার মাধ্যমে দরবারে প্রবেশ করবে হীরক রাজা)

(এসেই তিনি বসবেন এবং আনন্দ হাসি হাসবেন স্বশব্দে। তারপর এদিক-ওদিক তাকিয়ে—-)

হীরক রাজাঃ  রাজ্যে যাদের আমি পুষি

তাদের কাজে আমি খুশি।

(বলেই তিনি আবার স্বশব্দে হাসবেন। হঠাৎ থামবেন তারপর আবার এদিক-ওদিক তাকিয়ে—–মুখ গম্ভীর করে……)

হীরক রাজাঃ ভাল কথা গবেষক কই?

ডেকেছিলাম তারে—

উজিরঃ  তিনি গবেষণাগারে মহারাজ।

হীরক রাজাঃ আমি তলব দিলাম তবু আসে নি সে এতটা সাহস সে পায় কিসে?

(বলেই উঠে দাঁড়াবেন/ হাঁটতে হাঁটতে বলবেন……)

 হীরক রাজাঃ সাতলক্ষ টাকা নিয়েছে আগাম

অথচ কাজের নাই নাম

আবার ধমক দিলেই বলে

সবুরে মেওয়ে ফলে

(এমন সময় কিছুটা দ্রুত প্রবেশ করবে গবেষক। এসেই……)

গবেষকঃ মহারাজ…

বড্ড দেরী হয়ে গেল আজ

কত চিন্তা আমার,

খালি কাজ আর কাজ

হীরক রাজাঃ তোমার মাথায় পড়ুক বাজ

খাবার খাচ্ছ টন টন

অথচ কাজে নাই মন

গবেষকঃ বায়ু শন শন

মাছি ভন ভন

খাই শুধু এক কাপ চা

আর মধুসহ বাটারবন

হীরক রাজাঃ মধুসহ বাটারবন!!!?

গবেষকঃ জ্বি হুজুর

From Largest Mangrove সুন্দরবন।

খাঁটি!

হীরক রাজাঃ তা আমাকেও দিও একবাটি।

গবেষকঃ (মন খারাপ করে) মহারাজ…

হীরক রাজাঃ বলো…

গবেষকঃ  কি করে বলি আজ

হীরক রাজাঃ বলো… বলো…

গবেষকঃ মধু দেয়া নিষেধ

হীরক রাজাঃ কেন?

গবেষকঃ  রাগ করবেন না যেন

মধু আর নাই ঘন

­ধবংস হতে যাচ্ছে মধুবন(ও)

হীরক রাজাঃ কি বলতে চাও?

গবেষকঃ সুন্দরবনে লেগেছে ঘাও

বামেরা চিল্লাছে ফাও ফাও

মন্ত্রী, কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র করিবে

হীরক রাজাঃ তা ভাল কথা

এতে তোমার কেন এত মাথা ব্যাথা?

গবেষকঃ মাথা ব্যাথা কি আর সাধে?

কেন্দ্র হবে বাগেরহাটে

সুন্দরবনের খুবই নিকটে

হীরক রাজাঃ বিদ্যুৎ এর প্রয়োজনও আছে বটে

                   তা মন্ত্রী কি বলে?

গবেষকঃ তার চিন্তা নাই জানমালে

                   বিদ্যুৎ কেন্দ্র করবেই রামপালে

                   যায় আসে না কিছুই- লোকে কি বলে

                   একগুঁইয়ে স্বভাব জলে এবং স্থলে

হীরক রাজাঃ      পরিবেশবিদের কি কথা?

গবেষকঃ  তারই আছে শুধু মাথা ব্যথা

                   দেদারছে চিল্লাচ্ছে হায়

                   শোনে না আলাল দুলালের মায়

হীরক রাজাঃ তা কি বলতে চায়?

গবেষকঃ বলতে চায় মেলা

                   ব্যবহার করলে কয়লা

সুন্দরবন হবে ময়লা

হীরক রাজাঃ হায় আল্লা (হ) আল্লা (হ)

এ আবার কোন জ্বালা?

গবেষকঃ আছে আরেকজন

                   বড় বিজ্ঞজন

                   বলছে…

ধ্বংস হবে সুন্দরবন

তাই ডাক দিয়েছে লংমার্চ

লোকে ছুটছে পাছ পাছ

মহারাজ।

হীরক রাজাঃ বলছ কি তুমি গবেষক?

গবেষকঃ  জ্বী হুজুর!

                   প্রতিবেশী আবার দাবী করছে তাদের হক

হীরক রাজাঃ ওরে আমার জন্যে নিয়ে শরবত

                   আর জলদি মন্ত্রীকে ডাকা হোক

গবেষকঃ  মন্ত্রী আছে মহাব্যস্ত

                   উপদেষ্টা তাকে করেছে সন্তুষ্ট

                   দুজনে এখন খুবই ঘনিষ্ঠ

হীরক রাজাঃ তাদের কাজে আমি অতিষ্ঠ

                   যত্ত সব উচ্ছিষ্ট

                   কি এমন কাজে ব্যস্ত?

গবেষকঃ চিন্তা তাহাদেরও মস্ত

                   কৃত্রিম সুন্দরবনের করবেন বন্দোবস্ত

হীরক রাজাঃ এও কি সম্ভব?

                   গবেষক?

গবেষকঃ মহারাজ…

                   অসম্ভবকে সম্ভব করাই জলিল ভাইয়ের কাজ

হীরক রাজাঃ  জলিল ও কি মন্ত্রীর সাথে?

গবেষকঃ  জানেন ভাল আল্লাহ পাকে।

হীরক রাজাঃ যাক্ গে…

                   কামের কথা কও

গবেষকঃ একটাই কামের কথা

                   সুন্দরবন যেন না পায় ব্যথা

                   এইটাই জনগনের চাওয়া।

হীরক রাজাঃ হুম

শোন ভাই জনগন

                   গড়ে তোল আন্দোলন।

                   আমি হীরক রাজা

ভাইঙ্গা দেব মন্ত্রীর মাজা

হবেই হবে সাজা।

প্রত্যাখান কর কৃত্রিম সুন্দরবনের এই জাদু

যদি চাও খাঁটি মধু।

শপথ নাও তবে

সুন্দরবন বাঁচাবে

যে কোন মূল্যে

ছাত্র শিক্ষক দলে দলে…